ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনিক নেত্রকোনা

‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গ্রামের বাড়িতে দুইবার মৃত্যু সংবাদ এসেছিল’

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯  

‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গ্রামের বাড়িতে দুইবার আমার মৃত্যু সংবাদ এসেছিল। একবার ২৫ মার্চ। আরেক বার ৬ ডিসেম্বর। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী যখন রাজারবাগ পুলিশ লাইনে প্রথম আক্রমণ করে। আমি তখন সেখানে ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলাম। পাক সেনাদের আক্রমণের সেই সংবাদটি তাৎক্ষণিক সারা দেশে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বেতার বার্তা পাঠিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। তারপর পাকিস্তানিরা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানসিক নির্যাতন শুরু করে। আর আমার গ্রামের বাড়িতে তখন আমার মৃত্যু সংবাদ এসেছিল।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ১৯৭১ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ওয়্যারলেস অপারেটর হিসাবে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহজাহান মিয়া।   

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চিরাং বাজারে অবস্থিত নিজ বাসস্থান ‘মুক্তি ভবন’ এ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা হয় বীরোচিত পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। 

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরেও আমার গ্রামের বাড়িতে আমার মৃত্যু সংবাদ গিয়েছিল।  সে দিন নেত্রকোণার দুর্গাপুর থানার বিজয়পুর বিওপি আক্রমণের সময় মাইন বিস্ফোরণে আমি মারাত্মক আহত হই। আমার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম নুরুও গুরুতর আহত হয়েছিল। নেত্রকোণার মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। মাইন বিস্ফোরণের পর বাড়িতে সংবাদ গিয়েছিল যে, আমি মারা গেছি। যাই হোক, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানিদের আক্রমণ এবং নেত্রকোণার বিজয়পুরে মাইন বিস্ফোরণ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়ে আজো বেঁচে আছি।’ 

বীরযোদ্ধা শাহজাহান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘নিজের জীবন বাজি রেখে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাক সেনাদের প্রতিরোধ করেছি। পাক সেনাদের হাতে বন্দি হয়ে তাদের বর্বর নির্যাতন সয়েছি। চার দিন পর সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ এলাকায় এসে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছি। আমার বাবা সৈরত আলী, ছোট ভাই এমদাদুল হক বাচ্চু ও নুরুল ইসলাম নুরুকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ করেছি। প্রশিক্ষণ শেষে ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ধর্মপাশা, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও হালুয়াঘাট এলাকায় পাক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছি।’ 

ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন অবস্থায় তার ছোট ভাই এমদাদুল হক বাচ্চু মারা যান এবং তার বাবা নৌকাযোগে বাচ্চুর লাশ নিয়ে গিয়ে গ্রামের বাড়িতে তাকে সমাহিত করেন জানিয়ে বলেন, ‘এদেশের স্বাধীনতার জন্য আমার পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছি। কিন্তু সে মোতাবেক সম্মানটুকু আজো পাইনি। যদিও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি ভাতা পাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে বহু সম্মাননাও পেয়েছি। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো পুরস্কার বা খেতাব জোটেনি।’

তাই তাঁকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা খেতাবে ভূষিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে পাঠ্যপুস্তকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানিদের প্রথম আক্রমণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানান। 

এ দিকে নেত্রকোণা জেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মানুষজনেরও দাবি, মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বীরোচিত মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়াকে যেন স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।