ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১ ১৪২৮

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনিক নেত্রকোনা

অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯  

নেত্রকোণা সদরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে প্রাক প্রাথমিক শিশু শ্রেণিতে ভর্তি চলছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এ মাসেই শেষ হবে ভর্তি কার্যক্রম। নেত্রকোণা পৌর এলাকায় ২৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় প্রাক প্রাথমিক শিশু শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম।এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী  ভর্তি হয়েছে। জাহানারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া বাকি সবগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। জাহানারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক শিশু শাখায় অদ্য পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৪১ জন। জাহানারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভিন জানান, ‘আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে, শিক্ষার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ দ্বিতীয় স্থানে আছে কাকলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাকলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অদ্য পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জন। কাকলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৌজিয়া তানবীর জানান,‘ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। জরাজীর্ন শ্রেণিকক্ষে তাদের ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।’ জেলা প্রশাসন কার্যালয় সংলগ্ন বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত এ অবস্থা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অপর্যাপ্ত শিক্ষার্থীর ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নেত্রকোণা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: আবু জাহিদ জানান, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার একমাত্র কারণ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থা। স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের কিন্ডারগার্টেন এ পড়াশোনা করে, অপর দিকে পিছিয়ে পড়া হত দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষা বিভাগে কর্মরত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষকবৃন্দের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারলে পাল্টে যাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “পৌর এলাকায় ২৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ টিতেই প্রধান শিক্ষক মহিলা। বিদ্যালয় ছুটির পর মহিলা প্রধান শিক্ষকগণ হোম ওয়ার্ক বা টিম ওয়ার্ক কোনটিই করা উনাদের পক্ষে সম্ভব হয় না বা বিদ্যালয়ের আশপাশের লোকজনদের সাথে কোন প্রকার সামাজিক সম্পর্ক খুবই কম থাকে। ফলে ছাত্র সংগ্রহের ব্যাপারে তাদের কোন প্রকার আগ্রহ মানুষের মাঝে প্রকাশ করেন না। যদি উনারা ভাল ছাত্র সংগ্রহ করার জন্যে কাজ করতেন তাহলে অবশ্যই ছাত্রসংখ্যার অবস্থা এ রকম থাকত না। বিদ্যালয়ের আশ-পাশের ভাল ভাল পরিবারের ভাল ভাল শিক্ষার্থী সংগ্রহ করার জন্যে কাজ করলে অবশ্যই বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।” সর্বোপরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হোক এটাই সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশা।