ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনিক নেত্রকোনা

ট্রাক আটকে সুপারভাইজারের রকেটের টাকা হাতিয়ে নেন দুই ঢাবিছাত্র

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২০  

রাজধানীর হাইকোর্ট মোড় এলাকায় ওয়াসার বালুর ট্রাক আটকানোর পর গাড়িটির ড্রাইভার ও হেলপারকে মারধর করে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন ও জুবায়ের আহমেদ শান্ত। একপর্যায়ে ট্রাকের সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এমনকি তার মোবাইলে রকেট অ্যাকাউন্টের পিন নিয়ে সেখান থেকে দুই হাজার টাকা হাতিয়ে নেন আল-আমিন ও শান্ত।

দুজনের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের ২০০০ এর ৪/৫ ধারায় এ চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম। ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালত চার্জশিটটি আমলেও নিয়েছেন।

চার্জশিটভুক্ত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে আল-আমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শান্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টায় হাইকোর্ট মোড়ের পানির পাম্পের সামনে চাঁদাবাজির সময় দুজনকে হাতেনাতে আটক করে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন ট্রাকের সুপারভাইজার মো. সোহেল রানা। মামলা নম্বর ৩৩।

এরপর দুজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাবি প্রশাসন তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থীকে কেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- এ মর্মে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

২৯ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য চার্জশিটে সাক্ষী করা হয় আটজনকে।

এর মধ্যে ৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম দুই শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ৪ মার্চ মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে নথি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) বরাবর পাঠান আদালত। সিএমএম আদালত মামলাটির নথি অন্য আদালতে পাঠালে সেখানে বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামি আল-আমিন ও শান্ত মামলার বাদী, ড্রাইভার ও হেলপারকে মারধর করে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এরপর তারা মামলার বাদী সোহেল রানার মোবাইলের রকেট অ্যাকাউন্ট থেকে জোর করে দুই হাজার টাকা নিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করেছি।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়েছে, ট্রাক ড্রাইভার কায়সার ও হেলপার শরীফ গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টা ২০ মিনিটে ওয়াসার বালু নিয়ে দয়াগঞ্জ থেকে শাহবাগ থানাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ নং গেটের উদ্দেশে রওনা হন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শাহবাগ থানাধীন হাইকোর্ট মাজারের পানির পাম্পের সামনে পৌঁছলে গাড়িটির চাকা পাংচার হয়। ড্রাইভার গাড়িটি সাইড করে চাকা ঠিক করতে থাকেন। এসময় শান্ত ও আল-আমিন এসে তাদের কাছে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রাকের ড্রাইভারও তাদের পরিচয় জানতে চান তখন। এতে দুই শিক্ষার্থী উত্তোজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন ড্রাইভার ও হেলপারকে। তারা কাগজপত্র দিতে রাজি না হওয়ায় ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন দুই শিক্ষার্থী। টাকা না দেয়ায় তারা ড্রাইভার ও হেলপারকে মারপিট করে জখম করেন।

তখন ড্রাইভার মামলার বাদীকে (সুপারভাইজার সোহেল রানা) ফোন করে বিষয়টি জানান। বাদী ঘটনাস্থলে এলে আল-আমিন ও শান্ত বাদীর কাছে ঢাবির ছাত্র পরিচয় দিয়ে তাকেও মারধর করেন। এসময় তার মোবাইলের রকেট অ্যাকাউন্টের পিন জোর করে নিয়ে দুই হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।