ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শনিবার   ৩০ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

  • || ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক নেত্রকোনা
২৯

মনে হয় এবার ভাতের অভাবেই মরে যাব!

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২০  

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অংশে আমরা অনেককেই দেখি। যাদের কোনো ডায়লগ নেই, কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর পাশে তাদের দেখা যায়, তাদেরকে মূলত এক্সট্রা শিল্পী বলা হয়। বিএফডিসিতে এক্সট্রা শিল্পীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকলেও অসহায় শিল্পী রয়েছেন পাঁচ শতাধিক।
যাদের অর্থ উপার্জনের অন্য কোনো উপায় নেই। ‘এক্সট্রা’ শিল্পী হওয়ায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য নন তিনি। বর্তমানে কাজ কম, তাই চলচ্চিত্র কর্মীদের কাছে হাত পেতেই চলছিল তাদের সংসার। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবাই যখন ঘরে বসে আছেন, তখনো বিএফডিসিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে একজন বুলু বারী। শুধু তিনিই নন, তার মতো অনেকেরই দেখা মিলবে বিএফডিসিতে। 

বর্তমানে তেমন কাজ না থাকায় চলচ্চিত্র কর্মীদের কাছে হাত পেতেই চলছিল বুলু বারীর সংসার। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবাই যখন ঘরে বসে আছেন, এমন সময়েও বিএফডিসিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। 

বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র অভিনেত্রী বিলকিস বারীর মেয়ে বুলু বারী বলেন, সিনেমার কাজ কম থাকায় বিএফডিসিতে ঘুরে ঘুরে, এর-ওর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে চলছি। এখন করোনাভাইরাসের জন্য তো সবই বন্ধ। বিএফডিসির সংগঠনগুলোও নিজেদের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ আসে না, টাকা দেয় না কেউ। গতকাল হেঁটে এসেছি, হেঁটে গিয়েছি। সারাদিন খাইনি কিছুই। মনে হয়, এবার ভাতের অভাবেই মরে যাব!

তবে কি করোনাভাইরাসের আতঙ্ক নেই? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মরণ তো আছেই, করোনার চেয়ে ভাতের কষ্ট বেশি। আমাদের মতো যাদের একবেলার খাওয়া অনেক কষ্ট করে জোগাড় করতে হয়, তারাই জানি পেটের জ্বালা কাকে বলে। করোনায় মারা গেলে কতটা কষ্ট হবে, সেটা জানি না। তবে খিদেয় মরতে চাই না।

একই সুরে কথা বলেন রানু বেগম, সালাম, বুরহান উদ্দিন। এফডিসির আমতলায় তারা একসঙ্গে বসে আলাপ করছিলেন। কেউ একজন আসলেই তাকিয়ে দেখছেন, কেউ পরিচিত কি না।

এমন অবস্থায় কী হবে তাদের, এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, আমরা সব সময় সমিতির অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়াই। তবে যারা আমাদের সমিতির সদস্য নন, তাদের জন্য বিশেষ কিছু করার সুযোগ কম। এর পরেও যারা নিয়মিত বিএফডিসি আসেন, তাদের আমরা চিনি। এমন এক্সট্রা শিল্পীদেরও পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। 

জায়েদ খান আরো বলেন, কবৃহস্পতিবার বিএফডিসিতে অসচ্ছল শিল্পীদের মাঝে চাল-ডাল, তেল-লবণ ও অনান্য সামগ্রী দেয়া হবে। সেখানে তাদের জন্যও বরাদ্দ থাকবে।

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর