ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

১৩

বাস কন্ডাক্টর থেকে জনপ্রিয় অভিনেতা, অতঃপর ৪০০ কোটি টাকার মালিক!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। তবে জনপ্রিয় রজনীকান্ত নামে। জানেন কি তামিল ছবির এই সুপারস্টার এক সময় খাবার জোগাড়ের জন্য নানা ছোটখাটো কাজ করেছেন?

কখনও কুলি হয়ে জিনিসপত্র বয়ে দিয়েছেন, কখনও বাসের টিকেট কেটেছেন কন্ডাক্টর হয়ে। উপার্জনের জন্য একসময় এ সব কিছুই করতে হয়েছে তাকে। আর আজ তিনি অন্তত ৪০০ কোটি টাকার মালিক! ২০১০ সালে ফোর্বস সূত্রে জানা যায়, তখন তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কোটি ৬৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সম্পত্তির এই হিসাব বর্তমানে আরও বেড়েছে।

‘থালাইভা’ রজনীকান্তের জন্ম ১৯৫০ সালে বেঙ্গালুরুর এক মারাঠি পরিবারে। মা সারাদিন সংসারের কাজকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। আর বাবা রামোজি রাও ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল।
চার ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন রজনীকান্ত। ১৯৫৬ সালে রজনীকান্ত যখন সবে ছ’বছরের তার বাবা চাকরি থেকে অবসর নেন। ৬জনের সংসারে পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে বাবা রামোজির।

সপরিবারে বেঙ্গালুরু শহর ছেড়ে কাছেই হনুমন্থনগর বস্তিতে ঘর বেঁধে থাকতে শুরু করেন তারা। খুব কম বয়সে মাকেও হারিয়েছিলেন রজনীকান্ত। মায়ের মৃত্যুর পর তাদের সংসার দেখার মতো কেউ ছিল না। পরিবারটা প্রায় ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল।

বেঙ্গালুরুর একটা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন রজনীকান্ত। তারপর তার দাদা তাকে রামকৃষ্ণ মঠে ভর্তি করিয়ে দেন। ছোট থেকে ক্রিকেট, বাস্কেটবলের প্রতি আগ্রহ ছিল, কিন্তু অভিনয়কে সেভাবে ভালবাসতেন না। রামকৃষ্ণ মঠেই তার অভিনয়ে হাতেখড়ি।

সংসারের টানাপড়েনে স্কুল পাশ করেই রজনীকান্ত চাকরির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কখনও কুলিগিরি কখনও কাঠের মিস্ত্রি হয়ে কাজ করেছেন। তারপর বেঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের বাস কনডাক্টরের কাজ পান।

এসব কাজ করার সময়ও মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করতেন রজনীকান্ত। তবে অভিনয়ে জনপ্রিয় হওয়ার আগে বাস কন্ডাক্টর হিসাবেও ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

যে রুটের বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন রজনীকান্ত, সে বাসটা ধরার জন্যই অনেক সময় পাবলিক অপেক্ষা করতেন। কারণ, রজনীকান্ত বাসের মধ্যেও টিকিট সংগ্রহের সময় নিজের ইউনিক স্টাইল দেখিয়ে যাত্রীদের বিনোদন দিতেন।

বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করার সময় রজনীকান্ত কবি ও লেখক টপি মুনিয়াপ্পার পৌরাণিক কাহিনিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। সে সময়ই তিনি অভিনয়টা আরও ভাল করে শেখার জন্য মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।

কাজ ছেড়ে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তে বাড়ির লোকেদের একেবারেই সায় ছিল না। সে সময় তার আর এক কন্ডাক্টর বন্ধু তাকে ভরসা জুগিয়েছিলেন। তাকে আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন।

ফিল্ম ইনস্টিটিউটেই তামিল ফিল্ম পরিচালক কে বালাচন্দ্রের নজরে পড়ে যান তিনি। তার পরামর্শেই তামিল ভাষা শেখেন রজনীকান্ত। ১৯৭৫ সালে কে বালাচন্দ্রের ফিল্ম ‘অপূর্বা রাগাঙ্গাল’ -এ প্রথম অভিনয় তার।

তারপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একটার পর একটা ছবির অফার পেতে শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘শিবাজি’ ছবিতে ২৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতা হন তিনি। সে বছর পারিশ্রমিকে প্রথম ছিলেন জ্যাকি চ্যান।

সূত্র: আনন্দবাজার

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা