ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

৬২

বানে ভাঙছে সড়ক বাঁধ ব্রিজ কালভার্ট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৯  

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও নওগাঁয় আরও অবনতি ঘটেছে। এর মধ্যে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও টাঙ্গাইলে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এসব জেলায় প্রতিদিনই ভাঙছে সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট ও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। আর ডুবছে একের পর এক জনপদ।

রেল ও সড়কপথ তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে উপজেলার ও উপজেলার সঙ্গে ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারছেন না, তারা ঘরের চাল, উঁচু বাঁধ ও সড়কে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দুর্গতরা আছেন শুকনো খাবার সংকটে। বিশেষ করে টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বন্যাকবলিত মানুষ পড়েছেন তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটে। সরকারি ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। আছে গোখাদ্য সংকটও।

ফলে বানভাসিদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গত দুদিনে ৭ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ২ জন, টাঙ্গাইলে ৩, জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১ ও কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১ জন মারা যায়। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি গতকাল বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নতুন করে তলিয়ে যায় চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম। গতকাল বন্যার পানি প্রবেশ করায় পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ভেঙে পড়ে। এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার তাড়াই এলাকার বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়। ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় হুমকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। কালিহাতী উপজেলায় গতকাল দুপুরে বন্যার পানিতে ডুবে তানজিলা (৮) ও লিমা (৫) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়। এর আগের দিন ভূঞাপুরে পানিতে ডুবে জিহাদ নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তারা উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরদুর্গাপুর গ্রামের আবু সাঈদের মেয়ে।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা শহরসহ চার উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত দুদিনে সদর উপজেলার গোদারহাট এলাকার শিশু সোহাগ (৫) বন্যার পানিতে ডুবে ও সাঘাটা উপজেলার কু-ুপাড়ায় উজ্জল কুমার (১৫) সর্পদংশনে মারা যায়। সাঘাটায় পানির তোড়ে গতকাল ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ৫টি ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে যায়।এ ছাড়া বানারপাড়া-মহিমাগঞ্জ সড়কের বাটি রেল সেতুসহ ৭টি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে কসবা ও বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ২০ গ্রাম এবং গতকাল নতুন করে আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়।গতকাল আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

জামালপুরে ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে গতকাল বিকালে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যাকবলিত ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বাড়িঘরে পানি ওঠায় বানভাসি মানুষ উলিয়াবাজার পাইলিং বাঁধ, ঘরের চাল, বিভিন্ন উঁচু জায়গা ও ব্রিজে গবাদিপশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন। বকশীগঞ্জে গতকাল ব্রহ্মপুত্র ও দশানী নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

গত বুধবার রাতে নতুন করে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের ৫টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। একই রাতে উপজেলা মেরুরচর ইউনিয়নের চিনারচর গ্রামে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজ পানির তোড়ে বিলীন হয়ে যায়। গতকাল সকালে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের জাগিরপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে মিনহাজ (৪) পানিতে ডুবে মারা যায়।

কুড়িগ্রামে গতকাল বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়। উলিপুর উপজেলার মধ্য নাওড়া গ্রামে গতকাল দুপুরে বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ববিতা খাতুন (১৬) নামে এক কিশোরী মারা যায়। সে ওই গ্রামের বাবলু মিয়ার কন্যা। পাশের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে আসছিল সে।

সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গতকাল বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল পর্যন্ত সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ২২ হাজার ২১২টি পরিবার বন্যাকবলিত বলে সরকারি সূত্র জানায়।

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি আরও ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটিই স্মরণকালের সর্বোচ্চ বিপদসীমা অতিক্রম করার ঘটনা বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিকে পানির প্রবল চাপের কারণে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের বিভিন্ন অংশে পানি চোয়াতে শুরু করেছে। ফলে বাঁধের পশ্চিম পাশের লোকালয়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
এই বিভাগের আরো খবর