ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

৬৫

বন্যা, চারহাজার কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯  

প্রবল বৃষ্টিপাত ও অকাল বন্যায় দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ৪ হাজার ১৭৮ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৩ জেলার প্রায় ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। ১১ জেলার ৩ হাজার ১৫২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ২১ জেলা বন্যাক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৮ জেলার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ১৯ জুলাই পর্যন্ত সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বেসরকারিভাবে জানা গেছে এখন পর্যন্ত সারা দেশের ২৮ জেলা বন্যাক্রান্ত হয়েছে।

 

 

এনডিআরসিসি’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে অনুযায়ী, দেশের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে ১৩ জেলার ৪৫টি উপজেলায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে আছে জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, শেরপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ ও লালমনিরহাট। 

এসব জেলায় যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, ধরলা, সোমেশ্বরী, আত্রাই, ঘাঘটসহ ৮ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। 

জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫৮ সেমি. ও ফুলছড়ি পয়েন্টে ১৪৭ সেমি. ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে এসব জেলার ৬৯ হাজার ৭০৮ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। সবচেয়ে বেশি ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে কুড়িগ্রাম (১৫,১৫৯ হেক্টর) ও জামালপুর (১৪,৬৪৫) জেলায়। এছাড়া গাইবান্ধায় ১০ হাজার ৮৩৩ হেক্টর, বগুড়ায় ৮ হাজার ৯৭৮ হেক্টর, সিরাজগঞ্জে ৭ হাজার ৫৪১ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।


 

 

ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক মতলব হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমন ধানের বীজ, পাট সহ তার আবাদযোগ্য সব জমিই এখন পানিতে ডুবে গেছে। যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয় বলেও জানান তিনি।

শফিউল হক নামের স্থানীয় এক মৎস খামার মালিক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনের পাশে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা খামারটিতে মাছ, হাস, মুরগি, কবুতর ও গরু ছিল। প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা তার খামারটি এখন বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, জাল দিয়েও মাছ আটকাতে পারেননি। পানির স্রোতে সব ভেসে গেছে। ১৯৮৮ সালের চেয়েও এবার ভয়াবহ বন্যা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপজেলা কমিটির সদস্য মোদন মোহন ঘোষ বলেন, জামালপুরের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন কোমর পানির নিচে। 

তিনি বলেন, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বুক সমান পানির নিচে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠেনি সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে বানভাসি মানুষ দু’মুঠো খাবার পাচ্ছে। ফলে দেওয়ানগঞ্জসহ জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ রয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা অপূরণীয় ক্ষতিতে পড়বেন।

১৩ জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ কাচা-পাকা মিলে ৪ হাজার ১৭৮ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লালমনিরহাট জেলায়। এ জেলায় ২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ এবং ৯০৫ কিলোমিটার রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


 

 

এরপরের অবস্থানেই রয়েছে সুনামগঞ্জ। এ জেলায় মোট ক্ষতি হয়েছে ৮১৮ কিলোমিটার রাস্তার। এছাড়া গাইবান্ধা জেলায় ৫৬৫ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৪৬, নেত্রকোনা জেলায় ৩৩৬, সিলেট জেলায় ৩৪০ কিলোমিটার রাস্তা। 

এছাড়া বন্যার পানির কারণে ১১ জেলার ৩ হাজার ১৫২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামালপুর জেলার। এ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮৪৬টি। এর মধ্যে ৬৮১টি শিক্ষা ও ১৬৫টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জ (৫৫৫টি প্রতিষ্ঠান), কুড়িগ্রাম (৫০৭), নেত্রকোনা (৩৭১), গাইবান্ধা (২৭৭) এবং সিরাজগঞ্জ (১৬৬) জেলায়।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
এই বিভাগের আরো খবর