ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৭

  • || ০৩ সফর ১৪৪২

দৈনিক নেত্রকোনা
৩৯৪

নদী ভাঙন

নেত্রকোনায় নদীভাঙনে হুমকির মুখে বাঁধ

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৮  

সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নে কংস নদের ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম ও ফসলরক্ষা বাঁধ, বাড়িঘর, আবাদি জমি ও জনপদ। হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের প্রায় ১০ গ্রামের কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাঁধ মেরামতের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেই। 

কংস নদ এক সময় খরস্রোতা ছিল। সারাবছর কংশ নদে পানি থাকত, বর্ষায় নদটি ভয়াল রূপ ধারণ করত। নদের পানি দক্ষিণ তীর ছাপিয়ে তলিয়ে যেত ফসলি জমি। এলাকার ফসল রক্ষার জন্য ১৯৯২ সালের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ করে। এতে ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার হেক্টর ইরি-বোরো ফসলি জমি অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায়। ওই বাঁধ সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা থেকে জেলার পূর্বধলার জারিয়া পর্যন্ত লম্বায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার। 

এই বাঁধের ওপর দিয়ে জেলা সদর থেকে ঠাকুরাকোনা হয়ে ফকিরের বাজার, পাহাড়পুরসহ ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ সারাবছর রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে করে চলাচল করে থাকেন। গত বছর নদের দক্ষিণ তীরে ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাঘরুয়া, পাঁচপাই এলাকায় কংস নদের তীরে দেখা দেয় ভাঙন। এরই মধ্যে খালপাড়, বাঘরুয়া, পাঁচপাই গ্রামের অর্ধশত বাড়ি ভেঙে নদীতে চলে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে আবাদি ও অনাবাদি জমি। বাঁধের প্রায় ২০০ গজ এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিলীন হয়ে যেতে পারে মসজিদ, জনপদ, কবরস্থান ও বসতি। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই বছর আগে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালুর বস্তা দিয়ে দায়সারা বাঁধ রক্ষার জন্য চেষ্টা করে। যা পরবর্তী সময়ে নদীভাঙনের মুখে পড়ে। এ বছর কংশ নদীর পানির ঢেউয়ে বাঁধটি আরও ভেঙে যোয়। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে সম্পূর্ণ বাঁধটি। বন্ধ হয়ে যাবে বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের। মেরামত করা না হলে বাঁধটি ভেঙে অকাল বন্যায় ভেসে যাবে বিস্তীর্ণ এলাকার ইরি-রোরো ফসলের জমি। 

সদর উপজেলার পাঁচপাই গ্রামের বাসিন্দা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্মী মো. খোকন তালুকদার এলাকার ফসল রক্ষার জন্য তিন বছর ধরে নিজের হাতের টাকার খরচ করছেন। বাঁধটি মেরামত করার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ওই বিভাগের লোকজন বাঁধটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। দুই বছর আগে দায়সারাভাবে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধের কিছু অংশে মেরামতের কাজ করে। 

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান খুশি মোহন জানান, ভাঙনকবলিত বাঁধের কিছু অংশ মেরামতের জন্য প্রকল্প তৈরি করে অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর