ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৫ ১৪২৬

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪১

১২১

ধানের জমিতে দুলছে পাহাড়ের কমলা

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯  

দুর্গাপুরের কৃষদের প্রধান ফসল ধান। বছরের তিনবার ধান চাষ করেই জীবিকা র্নিবাহ করেন তারা। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে নতুন ফসল চাষেই অনেকের আগ্রহ। এর মধ্যে রয়েছে শীতের অন্যতম একটি প্রধান ফল, কমলা। বাজারে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কমলার চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

আবহাওয়া ও জমির মাটি আশানুরুপ থাকায় উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলগুলোতে দিন দিন বাড়ছে কমলার চাষ। জমির পাশাপাশি বসতবাড়িতেও স্বল্প পরিসরে ছোট ছোট বাগান গড়ে তুলছেন অনেকে। বাগানের উৎপাদিত কমলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রফতানি হচ্ছে।

ধান উৎপাদন করে খরচের টাকা তুলতে না পারে ধানের বিকল্প কমলা চাষকে বেছে নিয়েছেন কৃষক নিকাশ মানকিম। পাহাড়ের প্রায় এক একর জমির উপর গড়ে তুলেছেন কমলার বাগান। পাশের দেশ ভারত থেকে পরিবারের খাওয়ার জন্য কিছু কমলা কিনে আনেন নিকাশ। আর সেই কমলা বীজ থেকে চারা গাছ তৈরি করে বাগান করার উদ্যোগ নেন নিকাশ। ২০০৭ সালে জমিতে একসঙ্গে ২৫০ টি চারা গাছ রোপণ করেন তিনি। এ থেকেই শুরু হয় নিকাশের কমলার বাগান গড়ার স্বপ্ন। সারাবছর এই ফলটির ফলন না হলেও নিয়মিতই গাছগুলোর পরির্চযা করেন তিনি।

চারা গাছ লাগানো পর মাত্র সাত বছরের মাথায় ২০১৪ সালের থেকেই তার বাগানে ফল আসতে শুরু করে। চার বছরে তার এই বাগানের প্রায় বেশির ভাগ গাছ থেকেই ফলন পেতে শুরু করেছেন তিনি। বছরের নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই ফল পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ বদলাতে শুরু করে। গাছেই কমলা ভালোভাবে পাকার পর ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত চলে ফলটি সংগ্রহের কাজ। বছরের মাত্র দুই মাস ফলন পেলেও ধান থেকে লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছেও কমলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

প্রতিদিনই নিকাশের কমলার বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে কৃষক ও দর্শনার্থীরা। স্থানীয় কৃষকরাও ফলটি চাষ করতে চারাগাছ সংগ্রহ ও পরামর্শ নিতে নিয়মিতই আসছেন নিকাশের বাড়িতে। 

নিকাশ জানান, তার বাগানের উৎপাদিত কমলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিনিই ক্রেতারা বাগান থেকেই কমলা সংগ্রহ করে নিচ্ছে। পরে তারাই স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন স্থানে এই কমলা রফতানি করে থাকেন। 

তিনি আরো জানান, একটি পূর্ণ বয়স্ক কমলা গাছ থেকে বছরে গড়ে প্রায় ৩০০-৪০০টি কমলা পাওয়া যায়। আর একটি কমলা গাছ সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। 

নিকাশ মানকিন বলেন, আমার ধানের ক্ষেত আছে কিন্তু খরচের তুলনায় তেমন কোনো লাভ হয় না। ফলে আমি এই কমলা চাষকেই বেছে নিয়েছি। এই কমলা চাষে আমি কোনো প্রকার সার ও কীটনাশক ব্যবহার করি না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে এই কমলা আবাদ করে থাকি। তাই এই কমলা চাহিদা অনেক বেশি। সরকার আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করলে আমি কমলার বাগানটি আরো বৃহৎভাবে করবো।

করিম মিয়া জানায়, ধান উৎপাদন করে আমরা খরচের টাকাই তুলেতে পারি না। এই অবস্থায় নতুন ফসল চাষ করাই আমাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এলাকায় নিকাশ ভাই কমলার চাষ করছেন। তার এ উদ্যোগ দেখে আমরাও বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএলএম রেজুয়ান জানান, আমরা নিয়মিতই কমলা চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তাছাড়াও কিভাবে কৃষকরা ভালভাবে এই কমলা চাষ করতে পারে তার জন্যও এই একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। যাতে করে তারা খুব সহজে ও অল্প খরচে এই কমলা চাষ করতে পারে।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
নেত্রকোনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর