ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৫ ১৪২৬

  • || ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৫৫

দক্ষিণ ঢাকাবাসীকে তাপসের খোলা চিঠি

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২০  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের জনগণের জন্য পাঁচটি রূপরেখা দিয়ে আধুনিক উন্নত ঢাকা গড়াসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

চিঠিতে তাপস বলেন, আমাদের ঢাকা-আমাদের ঐতিহ্য। যে ঢাকাতে হারিয়েছি আমার পিতা-মাতাকে, কাটিয়েছি শৈশব এবং কৈশোরের দিনগুলো। পড়াশোনা, খেলাধূলা আর আডডায় মেতেছি বন্ধুদের নিয়ে। বেড়ে উঠেছি, আবদ্ধ হয়েছি বিবাহ বন্ধনে। আজ বৃহৎ পরিসরে সেই ঢাকাবাসীর সেবার লক্ষ্যে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-হাজারীবাগ-কলাবাগান-নিউমার্কেট) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। এখানকার জনগণ অনেক ভালোবাসা-আদর-স্নেহে আমাকে আলিঙ্গন করে গত তিন মেয়াদে এমপি নির্বাচিত করে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। রাজধানী ঢাকায় নাগরিকদের মৌলিক সুবিধা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে- এ ঐতিহ্যবাহী ঢাকাবাসীর জন্য বৃহৎ পরিসরে কাজ করা ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সেই তাগিদেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চিঠিতে প্রাণের ঢাকাকে নিয়ে তাপস কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন:

১. ঐতিহ্যের ঢাকা: চারশত বছরের পুরনো এই ঢাকার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাসের উজ্জ্বল ছবি, ঐতিহ্যের গভীর শেকড় ও প্রত্নতাত্বিক গুরুত্ব। এখানে ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদও অনন্য। সাংস্কৃতিক ধারায় রয়েছে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, পহেলা বৈশাখ, ঘুড়ি উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তিসহ অসংখ্য উৎসব। আমি নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে সমন্বিত প্রয়াসে মহাপরিকল্পনা ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করে ঢাকাকে তার গৌরবে সাজিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবো।

২.সুন্দর ঢাকা: বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা দুই নদীর অববাহিকায় পত্তন হওয়া এমন শহর পৃথিবীতে বিরল। সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলতে সবুজায়ন, পরিবেশবান্ধব স্থাপনা বৃদ্ধি ও বায়ু দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য হাঁটার উন্মুক্ত স্থান তৈরি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাড় ঘিরে বনায়ণ, বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে সুন্দর ঢাকা গড়তে চাই।


 

 

৩. সচল ঢাকা: যানজটের কারণে রাস্তায় চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো ও ফিরে আসতে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের বিড়ম্বনা অপরিসীম। গণপরিবহনের সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুত গতির ও কিছু রাস্তায় ধীর গতির যানবাহন, আবার কিছু রাস্তায় শুধু হাঁটার ব্যবস্থা করবো। নদীর পাড়ে থাকবে সুপ্রশস্ত রাস্তা, যেখানে হেঁটে চলা যাবে, চালানো যাবে সাইকেল, রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি। দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। এভাবে গড়ে তুলব সচল ঢাকা।

৪. সুশাসিত ঢাকা: ঢাকায় একসময় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল। মাদক নির্মূলসহ, এলাকাভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকর করব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা। বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নাগরিক সেবা দেয়ার জন্য খোলা থাকবে।

মশকের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, মশক নিধন ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারে দৈনন্দিন ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন, বিধি ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকার উন্নয়ন ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের কাছে সমন্বিতভাবে দায়বদ্ধ করা হবে।

৫. উন্নত ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রদত্ত 'রূপকল্প ২০৪১' এ সুখী-সমৃদ্ধ-উন্নত বাংলাদেশের উন্নত রাজধানী ঢাকা গড়তে দীর্ঘ ত্রিশ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রত্যেকটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মান নিরূপণ করে অন্তত দশ বছর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।

চিঠিতে তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যমন্ডিত ঢাকাতে জন্মেছি, বড় হয়েছি, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখি। ঢাকা বলতে আমার বেড়ে উঠা এই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকাকেই বুঝি।

তিনি আরো বলেন, ব্যথাতুর হীম বুকে তাকিয়ে দেখি, এখানেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে স্বপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে হারিয়েছি আমার বাবা-মাকে। কিন্তু বিগত দিনে এখানেই পেয়েছি স্নেহ-ভালবাসা-বন্ধন। এই ভালোবাসাকে পুঁজি করেই, স্বপ্নের উন্নত ঢাকার পথ চলায় আপনাদের আস্থা ও সমর্থনই আমার পাথেয়। আপনাদের সমর্থনে নির্বাচিত হলে নাগরিক সব মৌলিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যেই নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, এই ঢাকা আমাদের সবার প্রাণের ঢাকা। আমি আশা করি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলতে সুযোগ দেবেন।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
section>
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর