ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৫ ১৪২৬

  • || ১৪ শা'বান ১৪৪১

১১৮

করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে যে ৯টি কাজ জরুরি

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২০  

বিশ্বজুড়ে এখন বিরাজ করছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক। চীনের উহান অঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন এই ভাইরাস। এরই মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত চীনে মারা গেছেন ১০৬ জন। আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ১৯৩ জন।

ভাইরাসের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো:

১. সর্দি
২. গলা ব্যথা
৩. কাশি
৪. মাথা ব্যাথা
৫. জ্বর
৬. হাঁচি
৭. অবসাদ
৮. শ্বাসকষ্ট

 

করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে যে ৯টি কাজ জরুরি:

১. ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন
২. গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন
৩. প্রচুর ফলের রস ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন
৪. ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ কিংবা সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নিন
৫. কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে ভাল করে ধুয়ে নিন
৬. ডিম কিংবা মাংস রান্নার সময় ভাল করে সেদ্ধ করুন
৭. ময়লা কাপড়  দ্রুত ধুয়ে ফেলুন
৮. নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিষ্কার করুন
৯. অপ্রয়োজনে ঘরের দরজা, জানালা খোলা রাখবেন না

চিকিৎসা: এ রোগের এখন পর্যন্ত খুব ভালো চিকিৎসা বের হয়নি। প্রথমত রোগী থেকে সংক্রমণ যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য তাকে আলাদা রাখতে হবে। এর জন্য সংক্রামক হাসপাতালে (ইনফেকশাস হসপিটাল) তাকে ভর্তি করতে হবে। এই হাসপাতালে ছোঁয়াচে রোগের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও সেবক/ সেবিকার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে প্রোটিএইচ ইনহিবিটর, যথা লোপেনাভির এবং রেটোনাভির এজেন্ট। (নিউমোনিয়া রোগীদের জন্য) এক্সপেরিমেন্টাল জন্তুদের ওপরে ইন্টারফেরন ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষের ওপর ব্যবহারের ফলাফল এখনো জানা যায়নি এবং এই রোগের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তবে চেষ্টা শুরু হয়েছে।

রোগ নিরাময়ের চাইতে রোগ প্রতিরোধ সহজ ও সস্তা: এখন পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধের পুরোপুরি ব্যবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি না। তবে এটা জানা যায়, মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ সংক্রমিত হয়। আমরা এখন এও জানি যার ভিতরে এই জীবাণু প্রবেশ করেছে তার থেকে সুস্থ মানুষের মধ্যে এ জীবাণু প্রবেশ করার পর ১০/১২ দিন পর রোগের উপসর্গ প্রকাশ পায়। কিন্তু উপসর্গ প্রকাশ করার আগে থেকেই জীবাণু তার ভিতরে প্রবেশ করার কারণে তিনি ছোঁয়াচে হয়ে যান। প্রথম পর্যায়ে তাই তিনি একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে সমাজে বিচরণ করতে পারেন।

সাধারণত নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। তাদের হাঁচি, কাশিতে অজস্র জীবাণু বের হয়। সুস্থ মানুষ নিঃশ্বাসে অথবা ভেজা চোখের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। হাতে বা আঙ্গুলে জীবাণু থাকলে তা নাক, চোখ স্পর্শ করার ফলে হাতের মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে দ্রুতগতিতে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সারা দিনে ২০/২৩ বার তার হাত বা আঙ্গুল মুখে, চোখে, নাকে লাগায় প্রতি ঘণ্টায়। সুতরাং জাগ্রত অবস্থায় ১৮ ঘণ্টায় ৩৬০ বার মুখম লে চোখ বা নাকে হাত দেয়। এক) সেই জন্য বার বার হ্যান্ড লোশন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দুই) মাস্ক বা মুখোশ পরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে মাস্কের বড় অসুবিধা এতে চোখ ঢেকে রাখা যায় না। মাস্কের আশপাশে ঢিলা থাকে এবং মাস্ক বারবার বদলানো যায় না। এর জন্য বড় এবং টাইট মাস্ক ব্যবহার করা প্রয়োজন। 

কোথা থেকে রোগ ছড়ায়

এক) রোগীর বাড়ি থেকে।

দুই) যেখানে অনেক জনসমাগম হয়। যেমন : জনসভা, ধর্মীয় সভা, বাচ্চাদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালের আউটডোর, ব্যক্তিগত ও সরকারি সামাজিক আয়োজন। পার্টি সেন্টার পার্ক, সিনেমা হল ইত্যাদি। চীনের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনান প্রদেশে এসব স্থান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। গণপরিবহন, উড়োজাহাজ, রেলগাড়ি ইত্যাদি। এগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে। এয়ারপোর্ট, সমুদ্রবন্দর, রেল স্টেশন, হাসপাতাল, আউটডোর ইত্যাদি জনবহুল স্থানে স্ক্যান করতে হবে।

চীনে ব্যবহৃত জ্বর দেখার স্ক্যানার জোগাড় করতে হবে। এটা শুধু কপালের কাছে লাগালেই গাণিতিক অক্ষরে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যা ভাইরাসের প্রথম উপসর্গ জ্বর। টিভি, রেডিও, সংবাদপত্রকে তাদের যোগ্য ও প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে হবে। কেমন করে আত্মরক্ষা করতে হবে তা শিখিয়ে দিতে হবে। কেউ যেন ভয় না পায় সেটাও দেখতে হবে।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
আন্তর্জাতিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর