ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আত্মীয়ের বাইরেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার পক্ষে ডা. জাফরুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার জন্য নিকটাত্মীয় ব্যতীত অন্যদের সুযোগ না থাকায় বিদ্যমান আইনকে সংকীর্ণ দাবি করে তা দূর করার জন্য হাইকোর্টে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাদের মতামত দেয়ার জন্য আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত মামলা কার্যক্রম মুলতবি করেন আদালত।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার অভিমত ব্যক্ত করার পর বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের তিনটি ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম।

আদালতের পূর্ব-নির্দেশনা অনুযায়ী মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ মতামত দিতে এসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আদালতকে বলেন, ‘এটি একটি সংকীর্ণ আইন। নিকট আত্মীয় ছাড়া আর কারও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার সুযোগ বর্তমান আইনে নেই। নিকট আত্মীয় যে সবসময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আইনটি সংশোধন করতে হবে, যেন একজন সুস্থ-সবল মানুষ চাইলেই তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারেন, এটিই হবে প্রতিকার।’

দেশে ১০ হাজার মেডিকেল এক্সপারর্ট দরকার, কিন্তু সেখানে আছে মাত্র ২০০ জন আছে বলে আদালতকে জানান ডা. জাফরুল্লাহ। তিনি বলেন, টাকা বা সম্পত্তি দান করার মতোই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে চাওয়াটা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শুধু নিকট আত্মীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের প্রক্রিয়াটি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তবে এর কারণে সমাজের দরিদ্র মানুষেরা যেন ক্ষতির স্বীকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে আইনে বিশেষ বিধান রাখারও প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালতকে জানান তিনি।

তবে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত না করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন।
তিনি আদালতে জানান, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের সুযোগ আইনের মাধ্যমে প্রসারিত হলে দেশে এর অপব্যবহার বেড়ে যাবে। সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষেরা অভাবের তাড়নায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচায় মেতে উঠবে। এরপর আসকের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন তিনি।

একই বিষয়ে প্রফেসর ড. হারুনুর রশিদ, প্রফেসর আছিয়া খানমসহ মোট পাঁচ ব্যক্তি আদালতে তাদের অভিজ্ঞ মতামত তুলে ধরেন।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়টি মানবিক ও দাতব্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ চেয়ে আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছি। আদালতের পূর্বের রায় অনুসারে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (শরীরে অপরিহার্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) দানে ধর্মীয় বিষয়টি বাধা হবে না বলে রায় আছে। সুতরাং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ধর্ম কোনো বাধা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনটির পরিসর বৃদ্ধি করলে এর অপব্যবহার হতে পারে বলে দাবি তোলা হয়েছে। সেজন্য আমরা সংশোধিত আইনে একটি সেফ গার্ড রাখার আবেদনও জানিয়েছি। আদালত এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২১ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন।’

মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের (১৯৯৯) তিনটি ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ধারা তিনটি হলো-২ (গ), ৩ ও ৬। নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দাতার যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছে এই ধারাগুলোতে।

১৯৯৯ সালের আইনের কয়েকটি বিধি প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
এই বিভাগের আরো খবর