ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক নেত্রকোনা
১১১

আট প্রজাতির জীবের অনুপস্থিতিতে অচল হতে পারে পৃথিবী

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২০  

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে কোনো না কোনো প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান মিলছে। ফলে প্রতিনিয়ত-ই বাড়ছে এর সংখ্যা। যদিও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে প্রাণী প্রজাতিরও। পৃথিবী টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি জীবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। তবে আট প্রজাতির জীব না থাকলে পৃথিবীই অচল হয়ে যেত।

প্রবাল

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় প্রবালের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। একে সমুদ্রের রেনফরেস্টও বলা হয়। উপকূল রক্ষা, নতুন নতুন ভূমি গড়ে তুলে নতুন বাস্তুসংস্থান তৈরি করা, এমন নানা ভূমিকা পালন করে প্রবাল। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মোট সামুদ্রিক জীবের চার ভাগের এক ভাগ খাবারের জন্য নানাভাবে প্রবালের ওপর নির্ভর।

 

প্রবাল

প্রবাল

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন

এটি মূলত অণুজীব। সমুদ্রে বাস করা সবুজ এবং হাল্কা নীল রঙের অংশগুলোই হলো ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন। এগুলো পৃথিবীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানো বেশ সহজ। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথীবির বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের অর্ধেকের বেশি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন থেকেই আসে। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলার ভিত্তিও ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন।

মৌমাছি

প্রাচীনকাল থেকে মৌমাছি মানুষের নিকট অতি পরিচিত। এটি পৃথিবীর জন্যও অতি প্রাণী বলে ঘোষণা দিয়েছে রয়াল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি। এ প্রাণীর খাদ্য শৃঙ্খলে এক অনন্য জায়গা রয়েছে, যা বাস্তুসংস্থান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখে। উদ্ভিদের পরাগায়নে মৌমাছি বিপুলভাবে সাহায্য করে থাকে। এমনকি আমরা যেসব শস্য খাই, সেগুলোর অনেকটিই মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। নব্বইয়ের দশকে জীববিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো অনুধাবন করতে পারেন যে, মৌমাছি তার দৈনন্দিন রুটিনের মাধ্যমে আমাদের নানাভাবে উপকার করছে।

ছত্রাক

পানি, মাটি, বাতাস—সব জায়গাতেই ছত্রাকের অবস্থান থাকে। এরা অনেকটা প্রাকৃতিক পুষ্টি পুনর্ব্যবহারকারী হিসাবে কাজ করে। ছত্রাকের কিছু প্রজাতি পারদ জাতীয় ক্ষতিকারক ধাতুও শোষণ করতে পারে, অনেক প্রজাতি এমনকি প্লাস্টিকও হজম করতে পারে।

 

ছত্রাক

ছত্রাক

পিঁপড়া

অ্যান্টার্কটিকার মতো শীতল জায়গা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় জায়গাতেই পিঁপড়ার দেখা মেলে। ওজনে হালকা হলেও প্রয়োজনে তারা নিজের ওজনের চেয়ে ২০ গুণ বেশি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। পিঁপড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নানা ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে তাদের সংখ্যা দমিত রাখে। পিঁপড়া ব্যাঙ, টিকটিকি, পাখিসহ অনেক ধরনের প্রাণীর খাদ্য। এরা কৃষকদের উপকারেও আসে।

কেঁচো

কেঁচো আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বহীন প্রাণী বলা যায়। কিন্তু পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণীর দারুণ ভূমিকা রয়েছে। এরা মাটি খুঁড়ে চলাচলের মাধ্যমে প্রাকৃতিক হালচাষের কাজ করে। কেঁচোকে বাস্তুতন্ত্রের প্রকৌশলী বলেও অভিহিত করেন বিজ্ঞানীরা।

 

কেঁচো

কেঁচো

প্রাইমেট

প্রাণীজগতে মানুষের সবচেয়ে নিকট আত্মীয় এই প্রাইমেটরা৷ গ্রীষ্মমণ্ডলের নানা বনাঞ্চলে নানা উদ্ভিদের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে প্রাকৃতিক বনায়নে সহায়তা করে প্রাইমেট।

বাদুড়

বাদুড় স্তন্যপায়ী প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কলা, কুল, পেয়ারা ও লিচু এদের প্রিয় ফল। বাদুড় বিভিন্ন গাছের পরাগায়ণ ঘটাতে সাহায্য করে। এদের মল মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির অন্যতম উপাদান। এছাড়া প্রতি বছর পোকা খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে কীট দমন করে বাদুড়, ফলে বেঁচে যায় কয়েক মিলিয়ন ডলার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর