ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৩২২

আটপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০১৯  

নেত্রকোনার আটপাড়া শুনই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মাসুদুর রহমান রতনের বিরুদ্ধে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাথের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কর্মরত সকল শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে লিখিত ভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কার্যালয়ে পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর হতে অর্থাৎ ২০১২ইং হতে ২০১৮ইং সন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিটক থেকে আদায়কৃত বেতন, টিউশন ফি, পরীক্ষা ফি, ভর্তি সেশন ফিসহ অন্যান্য খাতের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেন। এ পর্যন্ত কোন শিক্ষক-কর্মচারী বিদ্যালয়ের অংশ থেকে তাদের প্রাপ্য বেতন ভাতা পায়নি। বি ত শিক্ষক-কর্মচারীগণের দাবীর প্রেক্ষিতে বিগত সময়ে কার্যনির্বাহী কমিটির রেজুলেশন সাপেক্ষে যাবতীয় হিসাব নিকাশ নিরীক্ষার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট অর্থ কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান শিক্ষক অর্থ কমিটির নিকট কোন প্রকার হিসাব-নিকাশ প্রদান করেন নাই। পরবর্তীতে অর্থ কমিটির সকল সদস্য প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের যাবতীয় আয়ের অর্থ ব্যাংক হিসাবে রাখার বিধান থাকলেও তিনি নিজ হেফাজতে রেখে নিজ ইচ্ছা মাফিক খরচাদি করে থাকেন। কমিটির রেজুলেশন ব্যতীরেখে বড় বড় অংকের খরচের টাকা ব্যয় করে থাকেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল এবং বিধি বহির্ভূত ভাবে লাইব্রেরীয়ান পদে লোক নিয়োগ করার ফলে প্রধান শিক্ষকের নামে মামলা চলমান রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ব্যাপক ভাবে উপজেলায় প্রকাশিত হলে এ উপজেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়পুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বাউসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সমঝোতায় সমাধানের চেষ্টায় করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের অসহযোগিতার ফলে তারও ব্যর্থ হন।
অপর দিকে বিগত কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে প্রধান শিক্ষক তার অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করলে কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের মামলা চলমান থাকলেও এর তথ্য গোপন করে তিনি তার অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে এডহক কমিটির অনুমোদন নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করে যাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দের মধ্যে অনৈক্যের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক তার বিশেষ অপকৌশলে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় কেহ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। শিক্ষার্থীদের টয়লেট গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা টয়লেট ব্যবহারে বিপাকে আছে। বিদ্যালয়ের জাতীয় পতাকাটি ছেড়া ও বিবর্ণ। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে জাতীয় পতাকা নিয়মিত টয়লেটের ট্যাংকির উপর উত্তোলন করা হয়। এলাকাবাসী জাতীয় পতাকার অবমাননা হচ্ছে বলে মনে করেন।
প্রধান শিক্ষক অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আতিকুর রহমান খান অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।

দৈনিক নেত্রকোনা
দৈনিক নেত্রকোনা
এই বিভাগের আরো খবর