ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২২ ১৪২৭

  • || ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দৈনিক নেত্রকোনা
৫৪

জবি প্রথম সমাবর্তন

আজ ১৯ হাজার ডিগ্রিধারীর সেই স্বপ্নপূরণের দিন

দৈনিক নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর আজ শনিবার প্রথমবারের মতো সমাবর্তনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। এতে প্রায় ১৯ হাজার স্নাতক ও অন্যান্য ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা প্রথাগত কালো গাউন আর টুপি পরে অংশগ্রহণ করবেন। এদিন বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে শোভাযাত্রা ও দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ধূপখোলা মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে দেড় লাখ বর্গফুটের বিশালাকৃতির প্যান্ডেল। আয়োজনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বাগত বক্তব্য দেবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এবং ধন্যবাদ বক্তব্য দেবেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমদ। প্রথমবারের মতো সমাবর্তন হওয়ায় গতকাল অনুষ্ঠানস্থলে স্নাতক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক মহড়া করেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

১৮৫৮ সালে টাঙ্গাইলের বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী পুরান ঢাকায় একটি ব্রাহ্মস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে ১৮৭২ সালে তার বাবার নামানুসারে এর নাম ‘জগন্নাথ স্কুল’ করা হয়। ১৮৮৪ সালে এই স্কুল দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজ, ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজ ও ১৯৬৮ সালে পরিণত হয় সরকারি কলেজে। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাল আইন-২০০৫’ পাসের মাধ্যমে এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সমাবর্তনে ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও সান্ধ্যকালীন ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা; যারা অন্তত একটি ডিগ্রি জবি থেকে অর্জন করেছেন, তারাই অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ১১ হাজার ৮৭৭ জন, স্নাতকোত্তর ৪ হাজার ৮২৯ জন, এমফিল ১১ জন, পিএইচডি করা ৬ জন ও ইভেনিং প্রোগ্রামের ১৫৭৪ জন অংশ নেবেন। এর মধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৭৬২ ও মেয়ে ৪ হাজার ৫৫৫ জন। যারা সুযোগ পেয়েও এ বছর সমাবর্তনে অংশগ্রহণের আবেদন করেননি, তারা আর কখনো জবির কোনো সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সমাবর্তন উপলক্ষে এরইমধ্যে ১৮ হাজার ৩১৭ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট প্রস্তুত করা হয়েছে। এক শিক্ষার্থী কেবল একটি সনদের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক ডিগ্রি অর্জনকারীরা সমাবর্তনের পর সনদ তুলতে পারবেন।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের গাউনও ফেরত নেওয়া হবে না। এরইমধ্যে অংশগ্রহণকারীরা গত ৭, ৮, ৯ জানুয়ারি অফিস চলাকালে স্ব-স্ব বিভাগ থেকে কস্টিউম, ব্যাগ ও গিফট সংগ্রহ করেছেন। আজ বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত, ১২ জানুয়ারি ও ১৩ জানুয়ারি সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত তারা স্ব-স্ব বিভাগ থেকে মূলসনদ গ্রহণ করবেন। উল্লেখিত তারিখের মধ্যে কেউ সনদ গ্রহণে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে মূলসনদ গ্রহণ করতে পারবেন।

এদিকে সমাবর্তনঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি, রোভার স্কাউটদের প্রস্তুত করা হয়েছে। সমাবর্তন স্থলে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে প্রবেশ করবেন গ্র্যাজুয়েটরা।

এ ছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এর মধ্যে দুপুর ৩টায় নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নির্দেশনায় ৫টি নাটক ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নিচতলায় থাকছে চিত্রপ্রদর্শনী। বিকাল ৪টায় সংগীত বিভাগের উদ্যোগে কলা ভবনসংলগ্ন কাঁঠালতলায় হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল ৫টায় সেখানে সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী বাপ্পা মজুমদার।

জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষে এ কদিন এক ধরনের উৎসবমুখর পরিস্থিতি বিরাজ করছে ক্যাম্পাসজুড়ে। যদিও খুব বড় ক্যাম্পাস নয়, তার পরও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এবং যারা সমাবর্তনে সনদ নিতে আসছেন, তাদের মধ্যে এই উচ্ছ্বাস অনেক কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সমাবর্তন প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রত্যাশায় থাকে। প্রথম এত বড় আয়োজন করাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই সমাবর্তন উপলক্ষে আমরা কয়েকটি কমিটি করেছিলাম। কমিটির লোকরা অত্যন্ত পরিশ্রমের সঙ্গে সব কাজ করেছেন।

শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর